উত্তরদিনাজপুর

এবারে মাশরুমের চাষ শুরু হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও

দেখতে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো হলেও স্বাদে ও পুষ্টিতে ভরপুর এই মাশরুম। ব্যাঙ্গের ছাতা সচারাচর আমরা সবাই দেখে থাকি ভিজা, স্যাঁতসেঁতে স্থানে। সেগুলি আমরা কোনদিন সুস্বাদু ভাবে রান্না করে খাবারের কথা মাথায় আনতে পারি। কিন্তু ব্যাঙ্গের ছাতার মতো দেখতে লাগলেও সেগুলি খেতে খুব সুস্বাদু হয়। যাকে আমরা মাশরুম নামে জেনে থাকি। মাশরুম ব্যাঙ্গের ছাতার মতো দেখতে হলেও মাশরুমকে অতিযত্ন সহকারে চাষ করে চাষীরা। মাশরুম সচরাচর পাড়া এলাকায় বেশি প্রচলিত থাকলেও তা এখন পাহাড় পেড়িয়ে সমতলে জোর কদমে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তেমনি ভাবে মাশরুমের চাষ চলছে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের ভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের রাতন গ্রামে। গ্রামের বেশ কিছু চাষী অতি উৎসাহতার মধ্যে মাশরুম চাষ করলেও তাদের মন কিছুটা ভার। চাষীদের একটাই অভিযোগ মাশরুম চাষ করলেও বাজারের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন তারা। প্রশাসন মাশরুম চাষের উপর একটু নজর দিলে তারা উপকৃত হয়। রাতন গ্রামের তারক দেবশর্মা, পবিত্র দেবশর্মা চাষ করছে বেশ কিছু মাস থেকে। তারা নিজেদের গ্রামে ঠান্ডা ঘরের মধ্যে বিজ্ঞান ভিত্তিতে মাশরুম চাষ করছে অতি উৎসাহতার সাথে।

            দেবশর্মা ও পবিত্র দেবশর্মা জানান, মাশরুম চাষের পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং খেতেও খুব স্বুসাদু হয়l ঠিক মতো রান্না করতে পারলে একে বারে মাংসের মতো খেতে লাগে। মাশরুম চাষের পদ্ধতি হল প্রথমে খাড়ের আটিকে কুচি কুচি করে কাটতে হবে। এর পর সেই খড় একটি ক্যারিবাগের মধ্যে ঔষধের সাথে মিশিয়ে একটি ক্যারিব্যাগের মধ্যে একটি মুঠো করে গম দিয়ে ক্যারিব্যাগটি একটি লম্বা বাশের সাথে ছুলিয়ে রাখতে হবে। মাশরুমের বীজ তারা চোপড়া থেকে আনেন। মাশরুম চাষিরা জানান আমাদের এই জেলায় মাশরুম খাবারের মানুষ খুব কম দেখা যায়। তারাই মাশরুম গুলিকে শিলিগুড়ি পাঠায়। কোন সময় পায়কারেরা এসে মাশরুম ব্যবসায়ীরা কাছ থেকে মাশরুম কিনে নিয়ে যায়। পায়কারি হিসাবে ৫৫ টাকা দরে এবং খুচরা ১০০ টাকা কেজি দরে তারা বিক্রি করে থাকে মাশরুম। মাশরুম  চাষের জন্য প্রশাসন আর্থিক ভাবে যদি সহযোগিতা করে তার সাথে বাজারের ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে ব্যপক আকারে উৎপাদক করে ভালো লাভের মুখ আমরা দেখতে পাবে মাশরুম চাষিরা বলে জানান তারা।

            এদিকে কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই বৈশ্য জানান, তাদের এলাকায় বেশ কিছু চাষি মাশরুম চাষ করছে উৎসাহতার সাথে। সরকারি কিছু তহবিল আছে বিশেষ করে আত্মা প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সাহা্য্য করা হবে। আর তাদের বাজারের সমস্যার কথা শিকার করে নিয়ে তিনি জানান, বাইরে কিভাবে বিক্রি করা যায় মাশরুম তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মাশরুম খুব ভিটামিন জাতীয় খাদ্য। এখোন এই সব এলাকার মানুষ মাশরুম সমন্ধে অবগতি নয়। তার সাথে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বিদ্যালয় গুলিতে যে মিডেমিল খাওয়ানো হয় সেখানে শিশুদের মাশরুম খাওয়ান হলে একদিকে শিশুরা যেমন ভিটামিন যুক্ত আহার পাবে তার সাথে মাশরুম চাষীদের সমস্যা সমাধান হবে কিছুটা। তার যথা সম্ভব চেষ্টা করছেন তিনি বলে জানান।